নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:৫৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে খুলনা ও বাগেরহাট সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দিনব্যাপী সফরে তিনি উপকূলীয় এলাকার নদীভাঙন রোধ, সুপেয় পানির সংকট নিরসন এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
সুন্দরবন ও নলিয়ান পরিদর্শন
সফরের শুরুতে সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর বহনকারী হেলিকপ্টার খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান।
পরে নলিয়ান থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। দুপুর ১টার দিকে মোংলায় পৌঁছে মধ্যাহ্নবিরতির পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সভায় অংশ নেন।
মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন
বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন করেন। এরপর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।
বন্দরের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া মোংলায় ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য জমি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নদীভাঙন ও সুপেয় পানির সংকট নিরসনে গুরুত্ব
দাকোপের নলিয়ান ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দুর্বল বেড়িবাঁধ এবং সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা তৈরি হয়।
বিশেষ করে সুতারখালী ইউনিয়নসহ নদীভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন।
সফরসংশ্লিষ্ট বক্তব্যে উপকূলীয় এলাকার পানির সংকট দূর করা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সফরে ছিলেন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রী রবিউল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
সফরসূচি শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হেলিকপ্টারে মোংলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
মোংলা বন্দরের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের পাশাপাশি নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট এবং কর্মসংস্থানের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যার কার্যকর সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দারা। এসব পরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি তাঁদের জীবনযাত্রা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়নের ওপর।