নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১:২৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬
শুরুটা ছিল ধীরগতির। প্রথম ২৪ বলে রান করেছিলেন মাত্র ১৩। তবে এরপরই বদলে যায় হ্যারি ব্রুকের ব্যাটিংয়ের চিত্র। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার বোলারদের দিশেহারা করে ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তাঁর দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে দলও পেয়েছে বিশাল সংগ্রহ।
বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪২৯ রান করেছে ইংল্যান্ড। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। পাকিস্তানের মাটিতে কোনো ওয়ানডেতে এটিই সর্বোচ্চ রান।
ব্রুক খেলেছেন ১১৬ বলে ২০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ২১টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংসটি ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথম দ্বিশতক। একই সঙ্গে মাত্র ১১৪ বলে দুইশ রান পূর্ণ করে এই সংস্করণে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
এর আগে দ্রুততম দ্বিশতকের রেকর্ড ছিল ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিলের দখলে। গত মাসে গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
ব্রুকের ব্যাটিংয়ের গতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম ২৪ বলে ১৩ রান করার পর পরের ৫১ বলে পূর্ণ করেন শতক। সেখান থেকে দেড়শতে পৌঁছাতে তাঁর লাগে মাত্র ২২ বল। এরপর আরও ১৭ বলে দুইশ রান পূর্ণ করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। অর্থাৎ শতক থেকে দ্বিশতকে পৌঁছাতে তাঁর প্রয়োজন হয়েছে মাত্র ৩৯ বল।
এই ইনিংসে চার ও ছক্কা থেকেই ১৪৪ রান এসেছে ব্রুকের ব্যাট থেকে, যা ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ক্রিকেটে বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জস বাটলারের ১৫০ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এসেছিল ১২৪ রান।
ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি ছিল বেন স্টোকসের। ২০২৩ সালে ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮২ রান করেছিলেন তিনি। ব্রুক সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন।
পাকিস্তানে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েছেন ব্রুক। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) তাঁর সেঞ্চুরি রয়েছে। একই মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে করেছেন ট্রিপল সেঞ্চুরিও।
ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড ভারতের রোহিত শর্মার—তিনটি। শুবমান গিল করেছেন দুটি। এ ছাড়া শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, ক্রিস গেইল, মার্টিন গাপটিল, ফখর জামান, ঈশান কিষাণ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও পাথুম নিশাঙ্কা একবার করে এই কীর্তি গড়েছেন।