নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:০৬, ২২ অক্টোবর ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে মারুফ বেপারি নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বজনেরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে দেশটির বুস্টার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
নিহত মারুফ বেপারি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের পশ্চিম সিড্যা গ্রামের প্রয়াত আব্দুস সোবহান বেপারির ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার সন্ধানে ১৪ বছরেরও বেশি সময় আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান মারুফ। সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। স্বজনদের অভিযোগ, বুস্টার এলাকায় ব্যবসা চালানোর জন্য স্থানীয় একটি গোষ্ঠী তাঁর কাছে প্রতি মাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড চাঁদা দাবি করত।
নিহতের ভাতিজা কামরুজ্জামান বেপারি জানান, গত তিন মাসের মধ্যে মারুফ মাত্র এক মাস দোকান খোলা রেখেছিলেন। বাকি দুই মাস দোকান বন্ধ থাকায় তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়।
কামরুজ্জামানের অভিযোগ, বিরোধের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে মারুফকে গুলি করেন। তবে এ ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বজনেরা জানিয়েছেন, মারুফের মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে মারুফের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন তাঁরা। ঘটনার বিস্তারিত জানতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রম করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। বিদেশে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।