মোঃ আকরাম হোসেন, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ১১:৪১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৬, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে নয়, বরং ক্ষমতার দাপট ও অনিয়মের একচ্ছত্র কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। বিশেষ করে ঘাটাইল উপজেলার জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বিতর্কিত। অভিযোগ রয়েছে, কোথায় জমি নিয়ে বিতর্ক বা জটিলতা আছে—তা চিহ্নিত করে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়া হতো।
সম্প্রতি একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধে ন্যায্য বিচার পেতে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে ৩০-৪০ জন সাধারণ মানুষ তাঁর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভুক্তভোগীদের কথা শোনার কোনো সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত দূরভিসন্ধিমূলক ও অমানবিক আচরণ করে তাঁদের বিদায় করে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, টাকার বিনিময়ে ন্যায়বিচার বিক্রি করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করাই ছিল তাঁর প্রশাসনিক চর্চার অন্যতম দিক।
পত্রপত্রিকায় একাধিকবার তাঁর অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র প্রকাশিত হলেও প্রশাসনিক পদে বহাল থেকে তিনি তাঁর ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে গেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বদলি হলে সাধারণ মানুষ ভালোবাসা ও অশ্রুসজল সংবর্ধনায় তাঁদের বিদায় জানায়। তবে মাহামুদুল হাসানের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো চিত্র—ঘাটাইলবাসীর মনে ক্ষোভ আর স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস রেখে তাঁকে বিদায় নিতে হলো।
ঘাটাইলের সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনতে পরবর্তী নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে একজন সৎ, জনবান্ধব ও ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যাঁর কাছে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাঁদের সমস্যার কথা বলতে পারবে এবং ন্যায্য বিচার পাবে।