মোঃ ফোরকান উদ্দিন, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ১৩:৪০, ৮ অক্টোবর ২০২৬
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এএসআই অতনু বণিককে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার কথা বলে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এর একদিন আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে প্রত্যাহার করা হয়। তার একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার তদন্তে উপজেলার রানীগাঁও বাজারে গিয়ে তিনি ওই মন্তব্য করেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য ধারণ করেন।
এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়াবা দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে এসআই মাসুম আল মামুন ও কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তার মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫) এর সঙ্গে প্রতিবেশীদের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। পরে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।
মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে চুনারুঘাট থানা থেকে চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন।