মোকামতলায়  ২৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, বেড়েছে আয়োজনের ব্যয়

রুহুল আমিন মোকামতলা (বগুড়া)

প্রকাশ: ২০:১৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মোকামতলায়  ২৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, বেড়েছে আয়োজনের ব্যয়

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা। কোথাও চলছে প্রতিমার কাঠামোতে মাটির কাজ, কোথাও শেষ হয়েছে মূল কাঠামো নির্মাণ। এখন অপেক্ষা রং ও সাজসজ্জার কাজ শেষ করার। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার পূজার আয়োজন করতে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েছেন আয়োজকেরা।

এবার মোকামতলা উপজেলায় ২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর শিবগঞ্জ উপজেলা একক প্রশাসনিক এলাকা থাকাকালে সেখানে ৬২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উপজেলা বিভক্ত হওয়ায় এবার পৃথক দুই উপজেলায় পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) মোকামতলা সার্বজনীন দুর্গা ও কালীমাতা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি করছেন সুজয় সূত্র ধরসহ তিনজন কারিগর। এ সময় কারিগর সুজয় সূত্র ধর বলেন, "প্রতিমা তৈরির উপকরণ খড়, সুতলি, পেরেক, বাঁশ ও কাঠের দাম বেড়েছে। এতে প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে কয়েক গুণ। প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে। প্রতিমার কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন রং করার কাজ বাকি রয়েছে।"

মোকামতলা সার্বজনীন দুর্গা ও কালীমাতা মন্দির দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজল কুমার সাহা জানান, মোকামতলায় বড় পরিসরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। গত বছর এ মন্দিরের প্রতিমা তৈরির মজুরি ছিল ৫৫ হাজার টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। গত বছর পূজার মোট ব্যয় হয়েছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এবার বাজেট ধরা হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। গত বছরের তুলনায় এবার পূজার আয়োজন আরও জাঁকজমকপূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয়ও অনেক বেড়েছে। মোকামতলা সার্বজনীন দুর্গা ও কালীমাতা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজল কুমার সাহা আরও জানান, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব।

মোকামতলা  উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির শুভ্র প্রসাদ  জানান, মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজার খরচ অনেক বেশি। তার ভাষ্য, তাদের দৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত কোনো মণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে না। দুর্গোৎসবে প্রশাসনের যথেষ্ট সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তারা।

 মোকামতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বলেন, "এবার মোকামতলা উপজেলায় মোট ২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে। পূজা চলাকালে মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহীনুজ্জামান বলেন, "  মোকামতলা উপজেলায় ২৬টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ,  এবং ১৫টি সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন