রফিকুল ইসলাম
প্রকাশ: ২১:০৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
নদীপথ সচল হলে কম খরচে যাতায়াত বাড়বে, চাঙ্গা হবে স্থানীয় অর্থনীতি। কিন্তু হিজলাবাসীর সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত আশাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাদের চরম দুর্নীতি ও বিশ্বাসঘাতকতায়!
বরিশাল অঞ্চলের বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ, তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও ইউএনও স্বশরীরে এসে জনগণের সামনে ওয়াদা দিয়েছিলেন, খনন করা বালু কোনো ব্যক্তি বা মহলকে দেওয়া হবে না। সরকারি আশ্বাসে ভরসা রেখে নদীভাঙনের আশঙ্কা সত্ত্বেও নদী ড্রেজিংয়ে সায় দেন স্থানীয়রা। কিন্তু ড্রেজিং শুরু হতেই চেহারা বদলে যায় বিআইডব্লিউটিএর।
অভিযোগ উঠেছে, বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের আঁতাতে ড্রেজিংয়ের বালু ফেলা হয় সিন্ডিকেটের নির্দিষ্ট জায়গায়। সরকারি জমি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা, সাধারণ মানুষের কৃষিজমি, ডোবা ও নিচু জমি জোরপূর্বক বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। নদীর বুক থেকে তোলা প্রায় ৫ কোটি টাকার বালু মজুদ করে অন্তত এক বছর ধরে দেদারসে বিক্রি করছে এই সিন্ডিকেট। শুধু সরকারি খননই নয়, ড্রেজার বসিয়ে রাতের আঁধারেও আলাদাভাবে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে বালু।
মাঠের পর মাঠ কৃষিজমি আর জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণের স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়েছে নদী। এতে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি ও মাছের উৎপাদন। আর এর চরম খেসারত দিচ্ছে নদীর পাড়ের খেটে খাওয়া মানুষ। ২০২৫ সালের ৯ মে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন হিজলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পরিত্যক্ত মৌলভীরহাট তুলাতলী লঞ্চঘাট পরিদর্শনে আসেন। তখন চ্যানেল চালু ও আধুনিক লঞ্চঘাট গড়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র পুরোই উল্টো!
এত আয়োজন আর কোটি কোটি টাকা খরচের পরও ড্রেজিং করা সেই ঘাটে ভিড়তে পারছে না লঞ্চ, ভেড়ানো হচ্ছে নদী থেকে অনেক দূরে। বিআইডব্লিউটিএর অপরিকল্পিত খনন আর অসাধু কর্মকর্তাদের লোভের বলী হয়ে পুরো এলাকা জুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে মানুষ এখন পথসংবল, আর চরম ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মৌলভীরহাট।
নদী থেকে তোলা সরকারি বালু বিক্রি করে সেই টাকায় সিন্ডিকেটের কয়েকজন প্রভাবশালী আবার স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন! অন্যদিকে বসতভিটা আর রুটিরুজি হারিয়ে আজ দিশেহারা শত শত পরিবার।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মামুনুর রশিদের সাথে একাধিক বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন উঠান নি।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, নদী খননের নামে এই সরকারি সম্পদ বিক্রির টাকা কার পকেটে গেল? ড্রেজিংয়ের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারী করা বিআইডব্লিউটিএর অসাধু প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ ও বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার তীব্র দাবি জানাচ্ছেন সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগী হিজলাবাসী।