মোঃআহছান উল্লাহ, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৬:১১, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল সংলগ্ন প্রধান সড়কে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি চিকিৎসা যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকান, টং ঘর এবং বর্ধিত স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালের সামনের প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক ও ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত হয়েছে।
সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় অবৈধ দখলদারদের কবলে ছিল। ফুটপাত ছাপিয়ে মূল সড়কের একাংশ দখল করে ফলমূল, ফার্মেসি ও হোটেলের বর্ধিত অংশ, চায়ের টং দোকান এবং ভাসমান কাঁচাবাজার বসানোর ফলে চার লেনের সড়কটি এক লেনে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলো প্রায়ই হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে এসে তীব্র যানজটের শিকার হতো। জটলা পার হতেই কেটে যেত ২০ থেকে ৩০ মিনিট, যা অনেক সময় রোগীর জীবন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াত। সাধারণ পথচারীদেরও বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো।
জনসাধারণের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও ক্ষোভের বিষয়টি আমলে নিয়ে আজ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং সশরীরে উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। দুপুরের দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার ও বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে কুমেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের দুই পাশ থেকে উচ্ছেদ শুরু হয়। অভিযানে রাস্তার ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত পাকা ও আধা-পাকা শেড, লোহার এঙ্গেল ও ত্রিপলের ছাউনি ভেঙে দেওয়া হয়। একই সাথে সড়কের ওপর অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা বেশ কিছু সিএনজিচালিত অটোরিকশাকেও হটিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃমামুনসহ করপোরেশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বাধা এড়াতে উচ্ছেদ এলাকায় জেলা পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য ও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা মোতায়েন ছিলেন।
অভিযানস্থলে উপস্থিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃইউসুফ মোল্লা টিপু সাংবাদিকদের বলেন,হাসপাতাল এলাকা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সংরক্ষিত জায়গা। এখানকার সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমরা বারবার মৌখিকভাবে সতর্ক করার পরও যারা সরেনি, তাদের বিরুদ্ধে আজ এই কঠোর ব্যবস্থা। যানজট নিরসন এবং ফুটপাত পথচারীদের ফিরিয়ে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।জনস্বার্থে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের এই ধরনের আকস্মিক ও কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আকস্মিক এই উচ্ছেদ অভিযানে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স,কর্মকর্তা এবং চিকিৎসা নিতে আসা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষ ও তাদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বজন আব্দুল করিম বলেন, "আগে এখানে এসে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাই কঠিন ছিল, জ্যামে আটকে থাকতে হতো।আজকের অভিযানের পর রাস্তাটা অনেক পরিষ্কার লাগছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, অতীতেও এমন উচ্ছেদ অভিযান হয়েছে,কিন্তু কয়েকদিন পার হতেই আবারও সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে যায়। তাই এই সংবেদনশীল সড়কটি যেন আর পুনরায় বেদখল না হয়, সেজন্য সিটি করপোরেশনের নিয়মিত তদারকি,পুলিশি টহল ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে স্থায়ী নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, পুনরায় সড়ক দখল করার চেষ্টা করা হলে এবার সরাসরি আইনি ব্যবস্থা ও ভারী জরিমানা করা হবে।