’কাকে ভোট দিয়ে আজ ভুক্তভোগী হলাম’ বলা সাথী আক্তার জামিনে মুক্ত

মাহমুদুল হাসান, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১৭:৩৮, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

’কাকে ভোট দিয়ে আজ ভুক্তভোগী হলাম’ বলা সাথী আক্তার জামিনে মুক্ত

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। নিজ জিম্মায় ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন পাওয়ার পর তাঁর মুক্তির ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

আদালত পরিদর্শক মোহা. মোস্তাছিনুর রহমান জানান, বুধবার সকালে সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিচারক সাজিদুল ইসলাম তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। এ মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩ নভেম্বর। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।

সাথী আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় যাঁরা দলবদ্ধ হয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল পুলিশের। কিন্তু উল্টো ওই নারী উদ্যোক্তাকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ফেসবুক লাইভে সাথী আক্তারের বক্তব্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতাভুক্ত।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ অক্টোবর। ওই দিন বেলা দুইটার দিকে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে নিজের ‘সাথী বিউটি পার্লার’ প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার (৩০)। প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিওর একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাটি ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। একপর্যায়ে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।


এদিকে, ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাও পরিস্থিতির উত্তাপ বাড়ায়।

তবে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য, পুরো ভিডিও না দেখেই ছড়ানো গুজবকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।


ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, সাথী আক্তারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক জড়ো হয়েছিলেন। এতে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাঁকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারবিরোধী বক্তব্য বা মতপ্রকাশের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।


এর আগে গত সোমবার সাথী আক্তারকে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন