মোঃআহছান উল্লাহ,কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৮:১৫, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে সাধারণ আর দশটা দিনের মতোই চলছিল হাসপাতালের কার্যক্রম। কিন্তু সকাল ৯টার দিকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রটোকল বা পূর্ব নোটিশ ছাড়াই আকস্মিকভাবে সশরীরে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মন্ত্রীর এই আকস্মিক উপস্থিতিতে হাসপাতালজুড়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে হুলুস্থুল পড়ে যায়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি) এবং শৌচাগারসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সরাসরি সাধারণ রোগী ও চিকিৎসার খোঁজে আসা সাধারণ মানুষের শয্যাপাশে গিয়ে দাঁড়ান। তাদের কাছ থেকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, সরকারি ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং চিকিৎসা নিতে এসে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে কি না—সে বিষয়ে সরাসরি কথা বলেন ও খোঁজখবর নেন।
একই সাথে মন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন। নিয়োগ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে যোগদান না করে দায়িত্বে অবহেলা করার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) টেলিফোনে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। তবে অনিয়মের পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কর্তব্যরত অন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি ও দায়িত্বপালন পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে যাচাই করেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সরকারি হাসপাতালে এসে কোনো অসহায় রোগী যেন চিকিৎসাবঞ্চিত না হন। চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।" হাসপাতালে কোনোভাবেই দালাল চক্রের হয়রানি বা বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী এ সময় হাসপাতালের কিছু ছোটখাটো অবকাঠামোগত ও সেবামূলক ত্রুটি-বিচ্যুতি দ্রুত সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সময় বেঁধে দিয়ে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন এবং সেবার মান আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা ও আকস্মিক পরিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুরাদনগরসহ কুমিল্লার স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও অন্যান্য চিকিৎসকদের মধ্যে বাড়তি তৎপরতা, সতর্কতা ও চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।