আগুনের ২০ মিনিট আগে রিসোর্ট ছাড়েন বান্ধবীরা, ১০ মরদেহে নেই মুক্তা

জাকির ফরাজী, পিরোজপুর

প্রকাশ: ০৯:৫২, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আগুনের ২০ মিনিট আগে রিসোর্ট ছাড়েন বান্ধবীরা, ১০ মরদেহে নেই মুক্তা

কক্সবাজারের উখিয়ায় রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের মধ্যে এখনো শনাক্ত হয়নি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন জাহান মুক্তার (২৯) মরদেহ। আগুন লাগার মাত্র ২০ মিনিট আগে মুক্তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে যান। ঘুমানোর কথা বলে কক্ষে থেকে যান মুক্তা। এরপর আগুনের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর এলেও তাঁদের মধ্যে মুক্তা আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি তাঁর পরিবার। এতে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে স্বজনদের।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি।

এর আগে শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন। সকাল সোয়া ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।

মুক্তা পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া গ্রামের খানবাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামালের মেয়ে। তিনি ঢাকার সাভারের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বপ্ন বিলাস স্কুলে শিক্ষকতা করতেন।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুদিন আগে দুই বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে ছুটিতে কক্সবাজারে বেড়াতে যান মুক্তা। তাঁরা পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন। শনিবার সকালে মুক্তার দুই বান্ধবী সৈকতে হাঁটতে যাওয়ার সময় তাঁকেও সঙ্গে যেতে বলেন। তবে ঘুমানোর কথা বলে রিসোর্টের কক্ষে থেকে যান তিনি। বান্ধবীরা বের হওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে।

মুক্তার ফুফাতো ভাই ও মঠবাড়িয়া রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাজী বলেন, উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের মধ্যে তাঁরা এখনো মুক্তার মরদেহ শনাক্ত করতে পারেননি। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে তাঁরা থানায় যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, মুক্তা ও তাঁর স্বামী কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিবারের সবাই চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। মরদেহ শনাক্ত করা গেলে তা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে।

মঠবাড়িয়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, তাঁরা মুক্তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। উপজেলা বিএনপির নেতারা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে দলের নেতারা জানাজায় অংশ নেবেন।

পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালও শোক প্রকাশ করেছেন বলে জানান হুমায়ুন কবির।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, তাঁরা মুক্তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন