মোঃ শফিকুল ইসলাম সাকিল, নড়াইল
প্রকাশ: ১৩:০৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
নড়াইল জেলা শহর ও এর আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে একদিকে যেমন ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ, অন্যদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক চিত্রা নদী। শহরের উৎপাদিত বর্জ্যের বড় একটি অংশ সরাসরি চিত্রা নদীতে গিয়ে পড়ায় নদীটি এখন অস্তিত্ব সংকটে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় বাসাবাড়ি ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সড়কের পাশে কিংবা খোলা জায়গায়। রূপগঞ্জ বাজার, নড়াইল সদর হাসপাতাল মোড় এবং বাস টার্মিনাল এলাকার আশপাশে ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই ময়লা ধুয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা পথচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন- পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার করার কথা থাকলেও অনেক সময় দিনের পর দিন ময়লা জমে থাকে। পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে ঘরের জানালা খোলা রাখা যায় না। মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে গেছে, যার ফলে শিশুরা প্রতিনিয়ত ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র দেখা গেছে নড়াইল-যশোর মহাসড়কের পাশে সীতারামপুর এলাকায়। নড়াইল পৌরসভা থেকে সংগৃহীত পচনশীল এবং অপচনশীল সকল বর্জ্য একত্রে ফেলা হয় সেখানে। সব ধরনের বর্জ্য একত্রে ফেলার কারনে আশেপাশের কৃষি জমি আছে অত্যন্ত হুমকির মুখে।
এ বিষয়ে নড়াইল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুল মালেক মিয়া জানান- বর্তমানে নড়াইল পৌরসভা কর্তৃক যে ময়লা গুলো সংগ্রহ করা হয় সেগুলোকে হাইওয়ের পাশে একটি নিম্ন জমিতে ফেলে রাখা হয় কোনো প্রকার মেনেজমেন্ট ছাড়াই।যার ফলে বর্জ্য গুলো পোচে পরিবেশ দূষণ করছে।
তিনি আরো বলেন- একই সঙ্গে সকল বর্জ্য ফেলার কারনে অপচনশীল কিছু বর্জ্য পচনশীল বর্জ্যকে সহজে নষ্ট হতে দেয়না যার মধ্যে অন্যতম পলিথিন ব্যাগ।আর এই নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার না করার জন্য মাঝে মধ্যেই আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করি।
বর্জ্যের মধ্যে অন্যতম আরেকটা ক্ষতিকর জীবাণু বহনকারী বস্তু হলো চিকিৎসা বর্জ্য। চিকিৎসা বর্জ্যের বিষয়ে নড়াইল জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আ ফ ম মশিউর রহমান বলেন- হাসপাতালে আমারা বর্জ্য গুলো ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা করে রাখি, বিষাক্ত এবং ইনফেকশাস বর্জ্য গুলো জীবাণুনাশ করে পুরিয়ে ফেলি। তাছাড়া যে সকল সাধারণ বর্জ্য আছে সেগুলোকে আমরা একজায়গায় রাখি। পরে পৌরসভা তাদের লোক দিয়ে সেগুলোকে নিয়ে তাদের মতোকরে ডাম্পিং করে।
তিনি আরো বলেন - আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু হয়নি । বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে সেটাকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে সুতরাং আমাদের দেশে যদি দীর্ঘ মেয়াদি এই ধরনের পরিকল্পনা করা হয় তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সহ অনেক মানুষ উপকৃত হবেন।
নড়াইল পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান- নড়াইল পৌরসভা থেকে ময়লা গুলো এনে আমারা মহাসড়কের পাশেই ফেলি। যার জন্য আশেপাশের লোকজন সহ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি ব্যক্তিরা দূর গন্ধের কারনে গালাগালি করে।এই জায়গাটা একটু ভিতরের দিকে হলে ভালো হতো।এই বিষয়ে আমারা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বল্লে তিনি আমাদের সাথে কোনো কথা বলেনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই সংকটের বিষয়ে নড়াইল পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, শহরের বাইরে একটি স্থায়ী এবং আধুনিক ডাম্পিং জোন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
নড়াইলবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাসের বাণী নয়, বরং দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে নড়াইল জেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা হোক।