শান্ত মিয়া, জাজিরা (শরীয়তপুর)
প্রকাশ: ১০:১৩, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩৯, ২০ অক্টোবর ২০২৬
এ সময় শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তার বহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি সাময়িকভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযানকারী দলটি কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও নৌ-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে চরাঞ্চলে কঠোর যৌথ অভিযান পরিচালনা করলে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
যৌথ অভিযান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার তৌহিদুর রহমান এবং জাজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। যৌথ বাহিনী মোট ৪৫ জন জেলেকে আটক করে। এদের মধ্যে ৪০ জন জেলেকে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৩ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ৩০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তাবিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন দুর্গম চরাঞ্চলে অসাধু জেলেরা একত্রিত হয়ে আগ্রাসী মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করেছিল। তবে যৌথ বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজে বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে জেলেদের সচেতন করছেন এবং মা ইলিশ রক্ষায় এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালনে সকলকে উদ্বুদ্ধ করছেন।"
ঘটনার বিষয়ে শরীয়তপুর-১আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, বিষয়টিকে আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখছি না। মূলত সরকারি আইন ও অভিযান প্রতিহত করার উদ্দেশ্যেই তারা এ ধরনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। নিবন্ধিত জেলের বাইরের কিছু অসাধু লোক বেআইনিভাবে মা ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছে। জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমাদের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।