নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:৪১, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৬, ২০ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবুজ টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার মিলপুর এলাকার (১ নম্বর ওয়ার্ড) বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে সে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি সে। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এর মধ্যে ২৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর থানার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অপর দুই সহযোগী হাবিব ও শাহিন পালিয়ে যান।
পরে সবুজের বাবা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। ১৫ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৫। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবি জানায়, কিশোর সবুজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৩ নম্বর পলাতক আসামি মোঃ হাবিবকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়।
পরে হাবিবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতা শাহিনকে গ্রেফতার এবং সবুজের মরদেহ উদ্ধারে সখিপুরের বহেরাতৈল আন্দিগ্রামের ঘন জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের কারণে প্রথম দফায় অভিযান সফল হয়নি।
পরদিন মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মোঃ শাহিনকে (৩০) গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় এসআরবি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রেফতার শাহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে বহেরাতৈল আন্দিগ্রামের গভীর জঙ্গলে পুনরায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সবুজের পরিহিত শার্ট, স্যান্ডেল এবং বন্য প্রাণীর খেয়ে ফেলা মরদেহের অবশিষ্টাংশ হিসেবে মাথার খুলি, চুল ও হাড় উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-১৪ জানিয়েছে, কিশোর সবুজকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস অপহরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরের মরদেহের সন্ধান এবং মামলার মূল আসামিদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে এসআরবি-১৪। গ্রেফতারকৃত আসামি হাবিবকে সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং শাহিনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।