মাগুরায় বাস কাউন্টারে যুবদল নেতাকে হত্যা, মাথা থেকে গুলি উদ্ধার

মোঃ রাজিব হোসেন, মাগুরা

প্রকাশ: ১৬:০৭, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মাগুরায় বাস কাউন্টারে যুবদল নেতাকে হত্যা, মাথা থেকে গুলি উদ্ধার

মাগুরায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. শাকের হোসেন (শাকের) নামে পৌর যুবদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের সময় নিহতের মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বাস কাউন্টার বন্ধ রেখে সড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। বুধবার সকাল থেকে মাগুরা-ফরিদপুর সড়ক, ঢাকা রোড এবং ভায়না এলাকায় মাগুরা-যশোর সড়কে বাস রেখে অবরোধ করায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর বাড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী গ্রামের বেপারীপাড়ায়। তিনি মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সামনে আসেন। তাঁদের একজন মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যজন কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে শাকের হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। এ সময় বাইরে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেলটি উচ্চ শব্দ করছিল বলে জানান স্থানীয়রা।

পরে গুলিবিদ্ধ শাকেরকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মইনুল ইসলাম তাঁর মাথার পেছনে গুলির চিহ্ন শনাক্ত করেন। চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।

নিহতের মামা রানা মোল্লা জানান, বুধবার ভোর ৫টার পর শাকের নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শাকের হোসেন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাস টার্মিনালের কাউন্টার মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল ৭টা থেকে বাস কাউন্টার বন্ধ রেখে তাঁরা বিভিন্ন সড়কে বাস আড়াআড়িভাবে রেখে অবরোধ করেন।

মাগুরা-ফরিদপুর সড়ক, ঢাকা রোড ও ভায়না এলাকায় মাগুরা-যশোর সড়কে অবরোধের কারণে উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। আটকা পড়েন শত শত যানবাহনের যাত্রী ও চালকেরা। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষসহ দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ সময় শ্রমিকেরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

হত্যাকাণ্ডের পর মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করেন।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডিবি ও সিআইডিসহ একাধিক দল তদন্তে কাজ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে, মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত না হয়ে মোটরশ্রমিক ও এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত শাকের হোসেনের ময়নাতদন্তের সময় তাঁর মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

এ ঘটনায় কারা জড়িত, কী কারণে শাকের হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন