এসআরবির ভুয়া পরিচয়ে অপহরণচক্র, নিরাপত্তার ফাঁক কোথায়?

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২০:১৪, ২২ অক্টোবর ২০২৬

এসআরবির ভুয়া পরিচয়ে অপহরণচক্র, নিরাপত্তার ফাঁক কোথায়?

কালো পোশাক, ‘এসআরবি’ লেখা জ্যাকেট, ভুয়া পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডকাফ—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়কে হাতিয়ার করে অপহরণের অভিযোগ। ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, শেষ পর্যন্ত টেকনাফের ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার। গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে ১৩টি মামলার তথ্য। প্রশ্ন উঠেছে, এমন একটি চক্র কীভাবে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে ভুক্তভোগীকে একাধিক স্থানে সরিয়ে নিতে পারল?

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রেমবাজারে একটি হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে তুলে নেওয়ার ঘটনা কেবল একটি অপহরণের ঘটনা নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় নকল করে অপরাধ সংঘটনের ভয়াবহ দিক সামনে এনেছে। পুলিশের দাবি, ‘এসআরবি’ পরিচয় ব্যবহার করে সক্রিয় একটি চক্র ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় আটকে রেখে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে।

ঘটনায় চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ব্যবসায়ীকে জীবিত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। তবে এই অভিযানের সাফল্যের পাশাপাশি সামনে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ভুয়া পরিচয়ের এই চক্র কত দিন ধরে সক্রিয়, তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু কারা ছিলেন, অপহরণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আর কারা জড়িত এবং এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে নজরদারির ঘাটতি কোথায়?

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারে মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের হার্ডওয়্যারের দোকানে বসেছিলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসান। এ সময় কালো পোশাকের ওপর ‘এসআরবি’ লেখা জ্যাকেট পরা, মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্কধারী কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করেন।
তাঁরা নিজেদের এসআরবির সদস্য পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীর যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে হাসান নিজের পরিচয় দিলে তাঁর দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। এরপর তাঁকে দোকান থেকে বের করে একটি অজ্ঞাত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয়।
অপহরণের পর ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একপর্যায়ে তাঁকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫-সংলগ্ন এলাকায় আটকে রাখা হয়।
এই ঘটনাপ্রবাহে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একটি জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকা থেকে একজন ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার পর তাঁকে একাধিক যানবাহনে স্থানান্তর করে দূরবর্তী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কীভাবে। ব্যবহৃত যানবাহনগুলোর পরিচয়, সম্ভাব্য যাত্রাপথ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীদের চলাচলের পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের প্রকাশিত বক্তব্যে মিলেনি।

অপহরণের কয়েক ঘণ্টা পর একই দিন রাত ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও দোকানের ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল আসতে থাকে। ফোনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এখানে অপহরণচক্রের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ভিওআইপি নম্বর ব্যবহার করে মুক্তিপণ দাবি করা হলে কলের উৎস শনাক্ত করা, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ এবং অর্থ লেনদেনের সম্ভাব্য পথ অনুসন্ধান তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থান, মাধ্যম বা মধ্যস্থতাকারী নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, পরিবারকে কোনো অগ্রিম অর্থ পাঠাতে বলা হয়েছিল কি না এবং এ ধরনের ঘটনায় অন্য কোনো ভুক্তভোগীর কাছ থেকেও একই কৌশলে টাকা আদায় করা হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর চক্রটির কার্যক্রমের পরিধি বুঝতে সহায়ক হবে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সুমন মুন্সি আগে উখিয়া এলাকায় র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে চাকরিচ্যুত ও কারাভোগের পর তিনি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়ে ভুয়া এসআরবি দল গড়ে তোলেন বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার বর্তমান অবস্থা, কোন মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে কি না এবং চাকরিচ্যুতির সুনির্দিষ্ট কারণ কী—এসব তথ্য যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে কথিত চক্রটির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা এবং অপহরণে প্রত্যেকের ভূমিকাও তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুমনকে তথ্য দিতেন। এরপর সুমন ও তাঁর সহযোগীরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেন।
এ বক্তব্য সত্য হলে, চক্রটির কার্যক্রম শুধু অপহরণে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সম্ভাব্য ভুক্তভোগী শনাক্ত করা, তথ্য সংগ্রহ, অপহরণ বাস্তবায়ন এবং জিম্মি রাখার স্থান নির্ধারণের মতো একাধিক ধাপ এতে যুক্ত ছিল। তদন্তে এসব ভূমিকার পৃথক চিত্র পাওয়া গেলে চক্রটির পূর্ণ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা সহজ হবে।

অপহৃত ব্যবসায়ীকে বুধবার ভোর ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫-সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ অংশ নেয়।
ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী দিকগুলোর একটি হলো, বাঁশখালী থেকে অপহৃত একজন ব্যবসায়ীকে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা পেরিয়ে টেকনাফের ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় নেওয়া হলো কীভাবে। ওই এলাকায় তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছিল, কতজন পাহারায় ছিল, তাঁকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না এবং সেখানে স্থানীয় কেউ সহযোগিতা করেছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় কাউকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠলেই পুরো রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের দায়ী করা যায় না। তদন্তে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা, অপরাধ সংঘটনের স্থান এবং সহযোগিতার প্রমাণ আলাদাভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় বহিরাগতদের চলাচল, অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহনের প্রবেশ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অভিযানে অপহরণে ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়ি, ‘এসআরবি’ লেখা পাঁচটি কালো জ্যাকেট, দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এই আলামতগুলো ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো পোশাক, পরিচয়পত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও আতঙ্ক—দুটিই তৈরি করা সম্ভব। অপরাধীরা সেই সুযোগ কাজে লাগালে ভুক্তভোগী কিংবা আশপাশের লোকজন প্রথম মুহূর্তে পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই অপহরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে ‘এসআরবি’ লেখা জ্যাকেট বা পরিচয়পত্রের প্রকৃত উৎস কী, এগুলো কোথায় তৈরি হয়েছিল, চক্রটি কত দিন ধরে ব্যবহার করছিল এবং একই ধরনের পোশাক বা পরিচয়পত্র অন্য কোথাও সরবরাহ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন।
এসআরবি পরিচয়ের প্রকৃত সাংগঠনিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও স্পষ্ট করা জরুরি। কোনো সংস্থার নাম বা সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেই সংস্থার সদস্য হয়ে যান না। বরং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচিতি ও সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সুমন মুন্সি, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার মিজানুর রহমান, উখিয়া উপজেলার জয়নাল উদ্দিন, বাঁশখালী উপজেলার আব্বাস উদ্দিন, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা ছলিম ওরফে সেলিম এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার দেলোয়ার হোসেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর থানার বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার এলাকা থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়।
এখানে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কে সরাসরি অপহরণে অংশ নিয়েছিলেন, কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন, কে পরিবহন বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং কে মুক্তিপণের যোগাযোগে যুক্ত ছিলেন। প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হলে মামলার তদন্ত আরও সুস্পষ্ট হতে পারে।

এ ছাড়া চক্রটি এর আগে অন্য কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যক্তিকে অপহরণ করেছে কি না, তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করা হয়েছে কি না এবং একই ধরনের পোশাক, পরিচয়পত্র বা যোগাযোগের কৌশল অন্য অপরাধে ব্যবহার হয়েছে কি না—সেসব তথ্য যাচাই করা জরুরি।

বাঁশখালীর এই ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমত, কোনো ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কাউকে নিয়ে যেতে চাইলে পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে তাঁর পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সন্দেহ হলে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে দ্রুত স্থানীয় থানা বা জরুরি সেবার সহায়তা নেওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর সর্বশেষ অবস্থান, সম্ভাব্য যাত্রাপথ, ব্যবহৃত যানবাহন, ফোনকল ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। আন্তজেলা সমন্বয় কার্যকর হলে অপরাধীদের চলাচলের পরিধি সংকুচিত করা সম্ভব হতে পারে। তৃতীয়ত, ভুয়া পরিচয়পত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরূপ পোশাক তৈরি ও ব্যবহারের উৎস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচয় যাচাই এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিযোগ জানানোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীকে উদ্ধার এবং ছয়জনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র জানতে আরও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন— ভুয়া এসআরবি পরিচয় ব্যবহার করে চক্রটি কত দিন ধরে সক্রিয় ছিল? অপহৃত ব্যবসায়ীকে লক্ষ্যবস্তু করার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল, নাকি তিনি আকস্মিকভাবে তাদের লক্ষ্যে পরিনত হন? অপহরণের সময় ব্যবহৃত সব যানবাহন শনাক্ত করা হয়েছে কি না এবং সেগুলোর মালিকানা কার? মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত ভিওআইপি নম্বরগুলোর উৎস শনাক্ত হয়েছে কি না? ব্যবসায়ীকে আটকে রাখার স্থানটি কে বা কারা ব্যবস্থাপনা করেছিল? সেখানে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না? সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে থাকা ১৩টি মামলার বর্তমান অবস্থা কী এবং আগের কোনো মামলার সঙ্গে এই চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না? গ্রেপ্তার ছয়জনের বাইরে আর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং একই কৌশলে অন্য কাউকে অপহরণের অভিযোগ আছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপহরণ হিসেবে নয়, বরং ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে সংঘটিত অপরাধের বিস্তার ও প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকেও মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রেমবাজারের একটি দোকান থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে টেকনাফের ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় আটকে রাখার অভিযোগ দেখিয়ে দিয়েছে, অপরাধীরা যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

অপহৃত ব্যবসায়ীকে জীবিত উদ্ধার এবং ছয়জনকে গ্রেপ্তার পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। কিন্তু এই সাফল্যের পূর্ণতা আসবে তখনই, যখন কথিত চক্রটির পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত হবে, অপরাধে প্রত্যেকের ভূমিকা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে এবং ভবিষ্যতে একই কৌশলে আর কোনো নাগরিক অপহরণের শিকার হবেন না—তা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন