হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে হবে নতুন রেল ব্রিজ: রেল সচিব

রঞ্জিত কুমার শীল, ঈশ্বরদী, পাবনা

প্রকাশ: ১৪:৫০, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে হবে নতুন রেল ব্রিজ: রেল সচিব

পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আগামী নভেম্বরের শেষার্ধে ঢাকা-পাবনা-ঢাকা রুটে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর আশা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন এই ট্রেনটি ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। পাশাপাশি পাকশীর ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে আরও একটি রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা-পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর বিষয়ে রেল সচিব বলেন, পাবনা-ঢাকা সরাসরি ট্রেন পাবনার মানুষের আবেগের জায়গা। বর্তমানে ভারত থেকে আসা ১৮টি কোচ গ্রহণ করা হয়েছে। কোচগুলো সৈয়দপুর ক্যারেজ ওয়ার্কশপে রয়েছে। প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও কারিগরি কার্যক্রম শেষ হলে আগামী নভেম্বরের শেষার্ধে ট্রেনটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রেনটিতে মোট ১২টি কোচ থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা-পাবনা ট্রেনটি প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে থামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মাঝগ্রাম থেকে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ট্রেন পরিচালনায় কিছু পরিচালনাগত ঝুঁকি রয়েছে। ঈশ্বরদী জংশনে ইঞ্জিন পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় পরিচালনাগত সুযোগ-সুবিধা থাকায় এই স্টেশন হয়ে ট্রেনটি পরিচালনা করা সুবিধাজনক হবে। এতে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পাশে নতুন রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা সম্পর্কে রেল সচিব বলেন, ১৯১৫ সালে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এখনো সচল রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করায় সেতুটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। তবে রেলওয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের জন্য বর্তমান সেতুর পাশাপাশি আরও একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, পঞ্চগড় থেকে রাজশাহী হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে বর্তমান হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এককভাবে যথেষ্ট হবে না। এ কারণে নতুন রেলসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান নির্ধারণ ও নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থায়ন নিশ্চিত হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার এবং বিভাগীয় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজওয়ান উর রহমানসহ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন