ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাকবিতন্ডার ঘটনায় পুলিশের জিডি

আব্দুল্লাহ আল মামুন, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশ: ১৫:৪৫, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাকবিতন্ডার ঘটনায় পুলিশের জিডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে থানা ভবনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বাদানুবাদে জড়ানোর ঘটনায় পুলিশের তরফ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে৷ গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জিডির বিষয়টি জানাজানি হয়।

জিডির বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তবে ঘটনার সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে থানায় কারা কারা এসেছিলেন- পুলিশ তাদের তথ্য সংগ্রহ করছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ওইদিনের ঘটনাটা উল্লেখ করে একটি জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ না৷ আমরা যে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলেই জিডি করে রাখি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির সঙ্গে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না দেয়ার কারণে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গাপূজা চলাকালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাকে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য বলা হলেও ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করেননি। নিরাপত্তা না দেয়ার কারণ এবং ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান রুমিন ফারহানা। রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি থানায় ওসির কক্ষে অবস্থান করেন।

এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন৷ এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, 'আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি স্যার। যাই হোক সেটা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই'।

তবে রুমিন ফারহানার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া ওইদিন সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেন। কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসেন আজেবাজে কথা বলার জন্য। ওনি বলেছেন আমি ইটভাটা থেকে টাকা নেই। হাওরে সব ইটভাটা পানির নিচে। আর আমরা পূজায় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে ওনার সঙ্গে পুলিশের একটি টিম রাখা ওইসময় কঠিন ছিল।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন