জাকির ফরাজীঃ
প্রকাশ: ১৯:১১, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না পিরোজপুরের জেলেরা। সন্ধ্যা, বলেশ্বর ও কালীগঙ্গা নদীতে জাল ফেলেও মিলছে না প্রত্যাশিত মাছ। দু-একটি ইলিশ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। এতে মাছ ধরার মৌসুমের শুরুতেই হতাশা ও সংসার চালানোর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কয়েক হাজার জেলে।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মধ্যরাত থেকে পিরোজপুরের নদ-নদীতে শুরু হয়েছে ইলিশ আহরণ। জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট, মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা, তুষখালী, বড় মাছুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরা ইলিশের আশায় নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর নদীতে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। কিন্তু নদীতে জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না তাঁরা।
জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞা মেনে ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত ছিলেন তাঁরা। এ সময় ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নেমে প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় তাঁদের সংকট আরও বেড়েছে। নৌকা, জাল ও জ্বালানির খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সামনে কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক জেলে পেয়েছেন ১৮ থেকে ২২ কেজি। এতে সরকারি সহায়তা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে তাঁদের মধ্যে।
তবে জেলা মৎস্য বিভাগের দাবি, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পরপরই জেলার ২০ হাজার ৯৪৫ জন জেলেকে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ৫০৩ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিষেধাজ্ঞার সুফল নিশ্চিত করতে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে বিতরণ ও এর পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে নদ-নদীতে কার্যকর নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।