মোঃ শফিকুল ইসলাম সাকিল, নড়াইল
প্রকাশ: ১৭:৩৮, ১০ আগস্ট ২০২৬
শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও বাংলার গ্রামীণ জীবনকে তাঁর চিত্রকর্মের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন এস এম সুলতান। ক্যানভাসে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের শক্তিশালী ও পেশিবহুল অবয়ব ফুটিয়ে তুলে তিনি দেশ-বিদেশে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর শিল্পকর্মে বাংলার মাটি, মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষকের জীবনসংগ্রাম বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) মহান এই শিল্পীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কোরআন খতম, শিল্পীর মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, আর্টক্যাম্প, চিত্রপ্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং এস এম সুলতান সম্মাননা পদক বিতরণ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর।
এস এম সুলতানের চিত্রকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গ্রামীণ জীবন ও পেশিবহুল কৃষক সমাজের উপস্থাপন। তাঁর উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে - চর দখল, ধান কাটা, পাট কাটা, কৃষকের সংগ্রাম ও আমার গ্রাম।
চিত্রকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। এছাড়া দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেন তিনি।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন এই মহান শিল্পী। তাঁর স্মৃতি ও শিল্পকর্ম সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে নড়াইলে প্রায় এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয় এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা ও শিশুস্বর্গ। পাশাপাশি শিল্পীর নামে একটি আর্ট কলেজও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
শিশুস্বর্গে বর্তমানে সপ্তাহে দুই দিন শিশুদের ছবি আঁকা শেখানো হয়। অন্যদিকে, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালায় বর্তমানে শিল্পীর ২৩টি দুর্লভ চিত্রকর্ম ও ৫৩টি রেপ্লিকা সংরক্ষিত রয়েছে। তবে জায়গার সংকটের কারণে শিল্পীর আরও কিছু চিত্রকর্ম সেখানে প্রদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংগ্রহশালাটি সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
নড়াইলের মানুষের কাছে এস এম সুলতান শুধু একজন চিত্রশিল্পী নন, তিনি নড়াইলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গর্বের প্রতীক। প্রতিবছর তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মহান শিল্পীকে স্মরণ করা হয়।