পিরোজপুরে ডেঙ্গুর লাগামহীন ছুট, এক দিনে হাসপাতালে ৭৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর

প্রকাশ: ১০:৪৪, ৪ অক্টোবর ২০২৬

পিরোজপুরে ডেঙ্গুর লাগামহীন ছুট, এক দিনে হাসপাতালে ৭৩

পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেন থামছেই না। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে পিরোজপুরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ১৩৪ জন। আক্রান্তের দিক থেকে বরিশাল বিভাগের মধ্যে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলার মধ্যেও পিরোজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৮২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৯৫১ জন। ডেঙ্গুতে জেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ৪৪ জন, নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, নেছারাবাদে ৮ জন, কাউখালীতে ৩ জন, ভান্ডারিয়ায় ৮ জন, মঠবাড়িয়ায় ২ জন এবং ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

ডেঙ্গুর রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের সীমিত জায়গার কারণে ডেঙ্গু রোগী ও সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি অবস্থান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে আশঙ্কা করে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কক্ষের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিম।

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. সুরঞ্জিত সাহা বলেন, “দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে পিরোজপুরে ডেঙ্গুর সংখ্যা অনেক বেশি। মনে হচ্ছে, কোনোভাবেই কমছে না; দিনে দিনে বেড়েই চলছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও কিছুটা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা যারা চিকিৎসা দিচ্ছি, আমাদের জন্যও পরিস্থিতি অনেকটা আনবিয়ারেবল। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিজাম উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ জন রোগী ভর্তি হয়। সবাইকে সামাল দিতে গিয়ে আমাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হয়।”

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন