নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
প্রকাশ: ২০:৩৫, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৭, ৩ অক্টোবর ২০২৬
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে আয়োজিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। সভায় দেশের বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মীর শাহে আলম বলেন, গত তিন দিনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। সরকারি ভবনগুলোর ছাদকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সমবায় ভবনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবেও দেখার কথা বলেন তিনি।
সভায় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মীর শাহে আলম। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ কাজে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
ইউএনওদের জন্য ঐচ্ছিক তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। তাঁর মতে, এ ধরনের তহবিল থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে জরুরি সময়ে আর্থিক সহায়তা দেওয়া সহজ হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অর্থের ব্যবস্থা না হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব থেকে এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে নেট মিটারিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে যাওয়ার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউএনওদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে তাদের তদারকির কথা তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত সম্মেলনের আয়োজন করা হলে মাঠপর্যায়ের সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও স্থানীয় দাবিগুলো সরাসরি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সভায় নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানির সরবরাহ বাড়ানো এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।