ইশরাকরা হেরে গেলে বিপদে পড়বে দেশ,মতামত সাধারণ জনগণের‎

সালেহ কায়সার

প্রকাশ: ১৫:৫১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ইশরাকরা হেরে গেলে বিপদে পড়বে দেশ,মতামত সাধারণ জনগণের‎

দীর্ঘদিন ধরে ‎রাজধাণীর পুরান ঢাকা মাদক কারবারিদের হটস্পট হয়ে আছে। বিশেষ করে গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দিন রাত ২৪ ঘন্টা প্রকাশ্যেই  রীতিমতো ডেকে ডেকে মাদক বিক্রি করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 

বলাই বাহুল্য, এই মাদককারবারিরা প্রতিনিয়ত তৈরি করছে হাজার হাজার মাদকসেবী, আর সেসব মাদকসেবীরাই মাদকের টাকা জোগাড় করতে করছে ছিনতাই, রাহাজানি। জড়াচ্ছে খুন, ধর্ষণ, ইভটিজিং সহ আরো নানান অপরাধে। এতে পুরান ঢাকার পাশাপাশি গোটা রাজধানীতেই দিন দিন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। 

 এসব বিষয়ে ঢাকা-৬ আসনের সাংসদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের কাছে অসংখ্যবার অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের নির্দেশে প্রশাসনের তৎপরতাও মাদককারবারীদের ওপর তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলে একরকম বিরক্ত ও অতিষ্ঠ হয়েই সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক নিজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সেচ্ছাসেবকদের নিয়ে হানা দেন গেন্ডারিয়ার একটি ভয়ংকর মাদকের স্পটে। কয়েকজন মাদককারবারী মাদকসহ আটকও হয় সেখানে, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হুঙ্কার দিয়ে বলেন আমার দলের কেউ ও যদি মাদক কারবারে জড়িত থাকে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে৷ 

কিন্ত বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, মাদকের স্পটে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক পিস্তল দেখিয়েছেন। এ ব্যাপারে ব্যাখা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের দাপ্তরিক একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে - 

মাদক কারবারিদের হামলায় ইতোপূর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বহু সদস্য হতাহত হয়েছে, মাদক কারবারি ও মাদকসেবীরা অধিকাংশ সময় নিজেদের সাথে ধারালো ব্লেড,খুর, চাপাতি ইত্যাদি ব্যবহার করে।  নেশার ঘোরে তারা এমপি, মন্ত্রী, পুলিশ কাউকেই পরোয়া করে না, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আত্মরক্ষায় নিজের দিকে তেড়ে আসা মাদক কারবারিদের ভয় দেখাতে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল প্রদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। তিনি সাধারণ কোন মানুষকে ভয়ভীতি দেখাননি। মাদককারবারিদের থেকে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে পিস্তল দেখিয়েছেন। তিনি গুলিও করেননি।  আত্মরক্ষার জন্যই  তো আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। তবুও কেনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক  বিতর্ক সৃষ্টি হলো তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। 

কিন্ত এ বিষয়ে সাধারণ জনগণের মতামত একদমই ভিন্ন। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও ইশরাক  জনগণের ডাকে সাড়া দিয়ে এভাবে যে একদম গ্রাউন্ড জিরো তে চলে এসেছেন তা নিয়ে  প্রশংসা করছেন গেন্ডারিয়া সহ মাদককারবারীদের তান্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাগুলোর জনগণ।

অগ্রযাত্রা প্রতিদিন কে গেন্ডারিয়াসহ পুরান ঢাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন - মাদক কারবারিদের তৎপরতা দিন দিন বেড়েই চলছে, থানা পুলিশকে জানিয়েও তেমন লাভ হয়না। মাদকের সাথে সাথে বাড়ছে অন্যান্য অপরাধও। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক যেটা করেছেন সেটা শতভাগ প্রশংসার দাবিদার, তিনি কোন অন্যায় করেননি বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়রা আরো বলেন- মূলত সবসময় ক্ষমতাসীন রাজনেতিক দলের ছত্রছায়াতেই মাদক কারবার হতে দেখি আমরা৷ কিন্ত সেখানে ইশরাক সাহেব সরকারি দলের প্রতিমন্ত্রী হয়েও যেভাবে মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিলেন এতে এলাকাবাসী ভরসা পাচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ইশরাকদের মতো দেশপ্রেমিকরা  হেরে গেলে দেশ বিপদে পড়বে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন-
গোটা পুরান ঢাকা ভাসছে মাদকে, এই সামাজিক  অবক্ষয় নিয়ে এভাবে "সিরিয়াস" হওয়াই কি তবে ইশরাকের অপরাধ?

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন