নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬:৩০, ২০ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে রংপুর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ ভুলে দেশের মানুষ একসঙ্গে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছে। সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল।
তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। আগামী দিনেও সব ধর্মের মানুষ যেন শান্তি ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা যেমন সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে এ দেশকে স্বাধীন করেছি, তেমনি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দল-মত নির্বিশেষে সব মানুষের সরকার হতে চায়। যারা সরকারকে ভোট দিয়েছেন, তাদের পাশাপাশি যারা ভোট দেননি, তাদের জন্যও সমানভাবে কাজ করতে চায় সরকার। দেশের সব অঞ্চল ও মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সুষম বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে সম্প্রতি ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় সড়ক, সেতু, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, এসব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিভেদ ভুলে জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশের ঐক্য বিনষ্ট করতে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার কোনো অপচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি বলেন, কারও কোনো বক্তব্য বা মতামত থাকলে তা সংসদে উপস্থাপন করা উচিত। জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে সব ধর্মের মানুষ আগামী হাজার বছর শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করতে পারে।”
দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। শিশুদের নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী পূজারি ও ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের শুভেচ্ছা জানান। ভক্তদের অনুরোধে তিনি তাদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন।
মন্দিরের সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। মন্দিরের পেছনে হোস্টেলসদৃশ অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, জেলা ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। রংপুরে আসার পথে তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় পৃথক পথসভায় বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কৃষকদের ঋণমওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় নেতাদের ভাতাসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।