মোঃআহছান উল্লাহ,কুমিল্লা
প্রকাশ: ১৬:২০, ২০ অক্টোবর ২০২৬
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে চৌদ্দগ্রাম বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা খিরণশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে সড়কের একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গভীর গর্ত এড়াতে গিয়ে অটোরিকশাটির সামনের চাকাটি সজোরে গর্তে আছড়ে পড়ে। সড়কের বেহাল দশার কারণে সৃষ্ট তীব্র ঝাঁকুনিতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার সামনের মূল এক্সেল ভেঙে চাকাটি পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায় এবং গাড়িটি সড়কের ওপর উল্টে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা চালক ও আরোহীরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান। আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
খিরণশালসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে এই সড়কের কোনো উল্লেখযোগ্য সংস্কার কাজ হয়নি। পুরো সড়ক জুড়ে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই গর্তগুলো মিনি পুকুরে পরিণত হয়। এর ফলে চালকরা গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রতিনিয়ত এই রুটে ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সড়কের এমন বেহাল দশার কারণে স্থানীয় অনেকে এখন এই রাস্তা এড়িয়ে বিকল্প দীর্ঘ সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
স্থানীয় সিএনজি অটোরিকশা চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই ভাঙা সড়কে গাড়ি চালানো এখন জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার সামিল। খানাখন্দের কারণে প্রতি সপ্তাহেই গাড়ির স্প্রিং, পাতি বা এক্সেল ভেঙে যাচ্ছে। এতে চালকদের আয়ের একটি বড় অংশ গাড়ি মেরামত করতেই চলে যাচ্ছে। আজ সরাসরি চলন্ত গাড়ির চাকা ভেঙে গাড়ি উল্টে যাওয়ার মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটল।
এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দ্রুত কার্পেটিং ও সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। তারা অবিলম্বে চৌদ্দগ্রাম-খিরণশাল সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।