আলমগীর হোসেন ফয়সাল, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ: ১৫:৪৭, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫১, ২০ অক্টোবর ২০২৬
এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পর দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ অংশের নিচে থাকা রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ১ অক্টোবর একই হাসপাতালের রেস্টরুমে সিলিং ফ্যানসহ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে নারী চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া মোস্তফা গুরুতর আহত হন। পরপর এমন দুর্ঘটনায় হাসপাতালের পুরাতন ভবনের সংস্কারকাজের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন সংস্কার করা হয়েছিল। তবে সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংস্কারকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে এসে এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন যথাযথভাবে সংস্কার করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবীন বলেন, হাসপাতালের পুরাতন ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অবকাঠামোগত এই ঝুঁকির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
একের পর এক দুর্ঘটনার পরও কেন হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগী ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবনটি জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন, সংস্কারকাজের মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না।