চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

মাহমুদুল হাসান, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১৯:৪৭, ১৫ আগস্ট ২০২৬

চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং সুস্থ জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ অফিসার্স ক্লাবে শহরের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের টার্ফ ফুটবল মাঠ ‘দি স্পোর্টিভা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে সরকার কাজ করছে।

 ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রমের প্রথম আসর সফলভাবে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধন চলছে। এবার ১০টি ইভেন্টে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দল গঠন করা হবে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় মাঠের জন্য আট বিঘা জমি না পেলেও ছোট পরিসরের উপযুক্ত জায়গাকে মাঠ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ থাকবে, এটাই সরকারের লক্ষ্য।

ময়মনসিংহের ক্রীড়া অবকাঠামো নিয়ে আমিনুল হক বলেন, দেশের ২২টি জেলায় থাকা সুইমিং পুলগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ময়মনসিংহের সুইমিং পুলের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। শিশুদের সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পানিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, নতুন অবকাঠামো তৈরির পরিবর্তে দেশের বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের ৬৪টি জেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রায় ৫০৩টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়ামের কার্যক্রম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

আগামী পাঁচ বছর পর অলিম্পিকের সর্বোচ্চ আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পদকের জন্য লড়াই করাও সরকারের লক্ষ্য বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিবন্ধী শিশুদের অবহেলা না করে ক্রীড়াক্ষেত্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের মধ্য থেকেও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্যারা ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

খেলাধুলার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও তীব্র গরম থেকে মানুষকে সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

ময়মনসিংহের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীর ওপারে প্রায় ৩৫ একর জায়গাকেও ক্রীড়া কার্যক্রমে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং দি স্পোর্টিভার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফেরদৌস।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, ফুটবলপ্রেমী, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে টার্ফ ফুটবল মাঠে ২০০৩ সালের সাফ গোল্ডকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন। বক্তব্য শেষে তিনি দি স্পোর্টিভা টার্ফ ফুটবল মাঠের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন