মাহমুদুল হাসান, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১৩:১৪, ১৯ জুলাই ২০২৬
ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের গোয়ারী নন্দীবাড়ী এলাকায় প্রায় সাড়ে চার একর জমি ছয় বছরের জন্য লিজ নিয়ে ২০২০ সালে ‘তাইফ এগ্রো’ নামে রামবুটানের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তোলেন চাচা মামুন শেখ ও ভাতিজা আশরাফ হোসেন শুভ। শুরুতে অভিজ্ঞতার অভাব, পরিচর্যার উচ্চ ব্যয় এবং বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে কয়েক বছর লোকসান গুনতে হলেও তারা হাল ছাড়েননি। ধারাবাহিক পরিচর্যা, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও ধৈর্যের ফল হিসেবে এ বছর বাগানে এসেছে আশাতীত ফলন।
বর্তমানে বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে লাল টুকটুকে রামবুটান। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি রামবুটান প্রায় দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের আশা, চলতি মৌসুমের ফল বিক্রির মাধ্যমে আগের বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখবেন তারা।
উদ্যোক্তা মামুন শেখ বলেন, বাংলাদেশে যখন রামবুটানের মৌসুম শুরু হয়, তখন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে এ ফলের মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদিত রামবুটানের চাহিদা তৈরির সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে রামবুটান দেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যে পরিণত হতে পারে।
অপর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেন শুভ বলেন, “রামবুটান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফল। পরিকল্পিতভাবে এর বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত মানের চারা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে রামবুটান ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। পাশাপাশি দেশের ফল উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই বিদেশি ফল।