মোঃ সবুজ মিয়া, নীলফামারী
প্রকাশ: ১৩:২৪, ৯ আগস্ট ২০২৬
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নীলফামারীর ছয়টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৬৯২ মেট্রিক টন
নীলফামারী সদর: ২৭,৯৭৯ হেক্টর, জলঢাকা: ২২,৯৮৫ হেক্টর, ডিমলা: ২১,২৪১ হেক্টর, ডোমার: ১৭,৯২৫ হেক্টর,কিশোরগঞ্জ: ১৪,৯৭০ হেক্টর,সৈয়দপুর: ৮,১২০ হেক্টর
কৃষি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (১৯ জুলাই পর্যন্ত), জেলায় মোট ২৬,৬৯৫ হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী সদরে সর্বোচ্চ ৯,৬০০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া ডিমলায় ৭,৪৭১ হেক্টর ও ডোমারে ৩,৬৯৪ হেক্টর জমিতে কাজ শেষ হয়েছে। তবে সৈয়দপুর উপজেলায় রোপণের হার তুলনামূলক কম, মাত্র ৩৩০ হেক্টর।
নীলফামারী সদরের গোড়গ্রাম হাজিপাড়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী জানান, উঁচু জমিতে রোপণ শেষ হলেও নিচু জমিগুলোতে পানি জমে থাকায় কাজ বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলেই সেখানে রোপণ শুরু হবে। কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক জানান, এবারে বীজতলায় চারা খুব ভালো হয়েছে, এখন রোদ উঠলে জমি প্রস্তুত করে দ্রুত রোপণ শেষ করতে চান তিনি।
অন্যদিকে, ডিমলা উপজেলার রহিম উদ্দিন জানান, শ্রমিক সংকট না থাকলেও কাদা ও অতিরিক্ত পানির কারণে কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, “মৌসুমের শুরুতে ভালো বৃষ্টিপাত আমন চাষের জন্য ইতিবাচক। নিচু জমিতে পানি জমে থাকা সাময়িক সমস্যা হলেও কৃষকদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।”
তিনি আরও জানান, জেলায় বর্তমানে ১,৮৯০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদ হয়েছে, যা আগস্টের মাঝামাঝি নাগাদ ঘরে তোলা সম্ভব হবে। আউশ কাটার পর সেই জমিতেও আমন চাষের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নীলফামারীতে এবার আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।