ছাতকে প্রতারক কবিরাজের ফাঁদ, বাসায় গিয়ে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ

মোঃ জানে আলম, ছাতক (সুনামগঞ্জ)

প্রকাশ: ১১:১৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছাতকে প্রতারক কবিরাজের ফাঁদ, বাসায় গিয়ে স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন, এরপর বাসায় গিয়ে ঝাড়-ফুঁক ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের নামে কৌশলে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ফকিরটিলা এলাকার মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) ও মো. আবদুল্লাহ মিয়া (৬৬)।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি জানায়, ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি দল গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিত। দুরারোগ্য রোগসহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের আকৃষ্ট করা হতো। কেউ বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করলে তাকে নানা ধরনের সমস্যার সমাধানের কথা বলে বিশ্বাস অর্জন করা হতো।

এরপর কথিত কবিরাজরা চিকিৎসার কথা বলে ভুক্তভোগীর বাসায় যেত। সেখানে ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবচ ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস অর্জন করত তারা।

একপর্যায়ে কথিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার একত্র করতে বলা হতো। পরে সেগুলো রুমালে নিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা কিংবা ওই পানি পুরো ঘরে ছিটানোর মতো নানা কৌশলে ভুক্তভোগীর মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়া হতো। এই সুযোগে স্বর্ণালংকার নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।

সিআইডি জানায়, এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে এক ভুক্তভোগী রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডি। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণায় ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জিয়াসমিন আক্তারের কাছ থেকে একটি সোনার আংটি এবং লকেটসহ একটি সোনার চেইন জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন ২১ দশমিক ৮৩ গ্রাম। সিআইডির হিসাবে এর আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পরে জিয়াসমিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই প্রতারণার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা, তাবিজ-কবচ, ঝাড়-ফুঁক কিংবা অলৌকিকভাবে রোগ সারানোর নানা বিজ্ঞাপনে সহজেই বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অপরিচিত কাউকে বাসায় ডেকে এনে চিকিৎসার নামে ঘরের মূল্যবান সামগ্রী তার হাতে তুলে দেয়া থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন সমাজসচেতন মহল।

কোনো চিকিৎসার অংশ হিসেবে স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সা কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী একত্র করতে বলা হলে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেয়াও উচিত বলে জানিয়েছেন তারা।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ফেসবুকের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অপরিচিত ‘কবিরাজ’কে বাসায় ডাকার আগে যাচাই করুন। চিকিৎসার নামে মূল্যবান সামগ্রী চাইলে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান।

আরও পড়ুন