পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৩০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আসাদুল হক (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বিএসএফ। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণ এবং প্রাণহানির এই ঘটনায় স্থানীয় সীমান্ত অধিবাসী ও নিহতের স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক এবং তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত আসাদুল হক ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে। অন্যদিকে বিএসএফের হাতে আটক হওয়া দুইজন হলেন একই ইউনিয়নের উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মো. মোস্তাকিম এবং ইন্দ্রইল গ্রামের বাসিন্দা মুনষা নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা।

সীমান্তের একাধিক সূত্রে যা জানা গেছে

সীমান্তের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, দিনাজপুর ৪২ বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩/এমপি থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ মহকুমা এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। সেখানে বাংলাদেশি কয়েকজন ব্যক্তির একটি দলের ওপর ভারতের ৬৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের একটি টহল দল হঠাৎ গুলিবর্ষণ করে। বিএসএফের ছোড়া গুলিতে আসাদুল হক মারাত্মকভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় ঘটনা স্থান থেকেই বিএসএফের টহল দল মো. মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে নিজেদের হেফাজতে আটক করে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে মারাত্মক আহত ও রক্তাত অবস্থায় আসাদুল হককে চিকিৎসার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালের দিকে তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইউপি সদস্যের বক্তব্য

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাজাহান আলী জানান, বিএসএফের গুলিতে নিহত আসাদুল হক তাঁর ইউনিয়নেরই বাসিন্দা। তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের সূত্র থেকে বিষয়টি প্রথম জানতে পারেন। খবর পাওয়ার পর পরই তিনি নিহতের বাড়িতে যান এবং শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) বিস্তারিত অবহিত করেন।

পতাকা বৈঠকের আহ্বান

সীমান্তে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হত্যাকাণ্ড ও দুজনকে আটকের প্রেক্ষাপটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) ভারতের ৬৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রক্ষা করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নিহত বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আটক দুই নাগরিকের বিষয়ে আলোচনার জন্য আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে দিনাজপুর ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন