ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল, নিরঞ্জন হত্যা রহস্য উদঘাটন; গ্রেপ্তার ১

মাহমুদুল হাসান, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ১৯:০৫, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল, নিরঞ্জন হত্যা রহস্য উদঘাটন; গ্রেপ্তার ১

ময়মনসিংহে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় শামীম মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল ও টাকা দাবির জেরে অটোরিকশা মালিক ও স্বর্ণকার নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরকে (৫০) হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তার শামীম মিয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার জালাল মিয়ার ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ নগরের গলগন্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানান।

পিবিআই জানায়, ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের চারটি অটোরিকশা ছিল। শামীম ওই অটোরিকশার গ্যারেজ ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সুবাদে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্রে নিরঞ্জন নিয়মিত শামীমের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় শামীমের অনুপস্থিতিতে তার বাসায় এক নারীর সঙ্গে শামীমের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে শামীমের কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে শামীমের খাগডহরের ভাড়া বাসায় যান নিরঞ্জন। সেখানে টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা ভারী শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তিনি বটি দিয়ে আঘাত করে নিরঞ্জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়। শামীম মরদেহটি একটি চটের বস্তায় ঢুকিয়ে প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর রাখেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে ইজিবাইক ভাড়া করে ড্রামটি নিয়ে বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকার একটি নির্জন খালের পানিতে ফেলে দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পরে ২৩ সেপ্টেম্বর স্লুইস গেটের পাশে পানিতে ভাসতে থাকা অবস্থায় ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের প্যান্টের পকেট থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরে যোগাযোগ করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী ও ছেলে মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর ময়মনসিংহ নগরের স্টেডিয়াম এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ত্রিশাল উপজেলায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি বাসা থেকে নিখোঁজ হন।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন