নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা
প্রকাশ: ১৬:৩৫, ২ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলার পশ্চিম ইলিশা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড বেইস ভোলা। এ সময় নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনরত অবস্থায় চারটি ড্রেজার ও একটি বাল্কহেড জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত আটজনকে আটক করা হয়।
পরে ভোলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিকদের মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে আটক সাতজনকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আটক অপরজনের বয়স ১৬ বছর হওয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। আটকৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে থাকা ড্রেজারগুলোর মধ্যে ‘সালায়া’, ‘একতা’, ‘চরমোনাই’ ও ‘আল মদিনা’ এবং বাল্কহেড ‘এমভি ইমামা’ রয়েছে।
জব্দ করা ড্রেজার ও বাল্কহেডের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার আহমদপুর গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে রুবেল (২৭), বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থানার চর মিঠুয়া গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে রিপন (২৫), ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া গ্রামের বেলাল বকশির ছেলে নোমান মিয়া (২২), একই এলাকার সালাহউদ্দিনের ছেলে ইয়ামিন (১৬), ভোলা সদর উপজেলার উত্তর ইলিশা গ্রামের ভাসানী মাঝির ছেলে মো. আব্বাস (৩৮), বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার শিয়ালগনি গ্রামের মকবুল হাওলাদারের ছেলে পরশ মনি হাওলাদার, বরিশাল কোতোয়ালি থানার বিমানবন্দর এলাকার রফিক হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার এবং একই থানার চন্দ্রমোহন এলাকার আব্দুল মজিদ খানের ছেলে মো. খলিল।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী মানুষের ফসলি জমি ও বসতভিটা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নদীতীরবর্তী মানুষের ফসলি জমি ও বসতভিটা রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।