পটুয়াখালীতে রাস্তার মাঝেই বৃদ্ধা আম্বিয়ার মানবেতর জীবন

মুহাম্মাদ এমাদুল ইসলাম, পটুয়াখালী

প্রকাশ: ১৯:০৪, ২ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীতে রাস্তার মাঝেই বৃদ্ধা আম্বিয়ার মানবেতর জীবন

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামে রাস্তার মাঝেই অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন আম্বিয়া নামের এক বৃদ্ধা। মাথার ওপর নেই নিরাপদ ছাদ, নেই থাকার মতো ঘর। দিনের পর দিন রাস্তার ওপর কিংবা রাস্তার পাশে পড়ে থেকেই কাটছে তাঁর জীবন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আম্বিয়ার পরিবার বলতে কার্যত কেউ নেই। তাঁর কোনো ছেলে নেই, স্বামীও নেই। একমাত্র মেয়ে থাকলেও তাঁর দেখাশোনা করার মতো পরিস্থিতি নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে জীবনের শেষ বয়সে এসে আম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজনও নেই।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আম্বিয়ার শারীরিক ও মানসিক কিছু সমস্যা রয়েছে। এ কারণে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপদ বাসস্থান না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশেই রাত কাটাতে হয় তাঁকে।

দিনের আলোয় পথচারী ও যানবাহনের চলাচলের মধ্যেই পড়ে থাকেন তিনি। আর রাত নামলে বাড়ে অনিশ্চয়তা। মশা-মাছি, বৃষ্টি, ঠান্ডা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি—সবকিছুর মধ্যেই কাটে তাঁর রাত। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া একজন মানুষের এমন জীবনযাপন স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এলাকার বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, “বৃদ্ধা আম্বিয়া যদি একটু সহযোগিতা পেতেন, তাহলে তাঁর চিকিৎসা ও থাকার জন্য অন্তত একটি নিরাপদ ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো। এভাবে একজন মানুষ রাস্তায় পড়ে থাকাটা খুবই কষ্টের।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তাঁর নিজের বলতে তেমন কেউ নেই। তিনি অসহায়। গ্রামের মানুষ যার যতটুকু সামর্থ্য, ততটুকু সহযোগিতা করেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে থাকার জায়গা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে তাঁর কষ্ট দূর হবে না।

এলাকাবাসীর দাবি, মানবিক মানুষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি বৃদ্ধা আম্বিয়ার পাশে দাঁড়ান, তাহলে তাঁর জন্য নিরাপদ একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব। একই সঙ্গে প্রয়োজন তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা।
স্থানীয়রা বলেন, একজন বৃদ্ধা জীবনের শেষ সময়ে এসে রাস্তার ওপর অসহায়ভাবে পড়ে থাকবেন—এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অসহায়ত্বের গল্প নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্বের বিষয়ও।
এ অবস্থায় বৃদ্ধা আম্বিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন