বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া, দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই

আহমেদ বায়েজিদ, বরিশাল

প্রকাশ: ১৯:৩২, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অস্ত্রের মহড়া, দুই দিনেও গ্রেপ্তার নেই

নগরীর রাজপথে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মিছিল, সঙ্গে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ—এমন ঘটনায় আতঙ্কিত বরিশালের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনার পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অবশেষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৭৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে বরিশাল নগরীর বাংলাবাজার এলাকায় সশস্ত্র অবস্থায় মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিল চলাকালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আকস্মিক এ ঘটনায় আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জনসমক্ষে এমন কর্মকাণ্ডের পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন—সাদ, মিরাজ, লাদেন, রাতুল, রাকিব, আবু বকর সিদ্দিক, রাশেদুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ মুন্না, তরিকুল ইসলাম রাজা, উজ্জল, খোকা, সীমান্ত ও ইব্রাহিম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তারা সবাই ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মী।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন নগরবাসীর

বরিশাল নগরীতে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিল-সমাবেশের ঘটনা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সদর রোড এলাকার বাসিন্দা রমিজ হাওলাদারের ভাষ্য, নগরীতে বারবার এ ধরনের কর্মসূচি পালিত হওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। ঢাকার বাইরে বরিশাল নগরীতেও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্যদের একাধিক মিছিল-সমাবেশ করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

রমিজ হাওলাদারের অভিযোগ, পুলিশের দৃশ্যমান ও কার্যকর তৎপরতার অভাবেই আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মীরা সশস্ত্র মিছিল করার সাহস পাচ্ছেন। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন।

গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর দাবি পুলিশের

মামলার বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মিছিলের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

তবে মামলা দায়েরের পরও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার নিয়ে নগরবাসীর অপেক্ষা বাড়ছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন ও বিস্ফোরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি নগরীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন