ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১৯:৩৪, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানাধীন কৈজুরী ইউনিয়নের আকইন গ্রামে পিঁয়াজের জমিতে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মাহাবুব মন্ডল (৩০) নামে এক যুবক ও তার চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবককে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত মাহাবুবের পিতা মো. ছিদ্দিক মন্ডল (৬৫) বাদী হয়ে ফরহাদ শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে অভিযুক্ত করে কোতোয়ালী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—ফরহাদ শিকদার (৫৫), তার ছেলে রাকিব (২০), জনি শিকদার (২২), শাকিল (২০) ও রনি শিকদার (২৫) এবং একই এলাকার মৃত খয়েজ শিকদারের ছেলে মোহাম্মদ সিকদার (৫৫)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর বসতবাড়ির পাশেই অভিযুক্তদের বাড়ি হওয়ায় পূর্ব থেকেই তাদের মাঝে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি বাদীর পিঁয়াজের জমিতে অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা ক্রিকেট বল ফেলে ফসল নষ্ট করতে থাকলে বাদীর ছেলে মাহাবুব এতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা মাহাবুবকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লোহার রড, জিআই পাইপ, ক্রিকেট ব্যাট ও স্ট্যাম্প নিয়ে বেআইনিভাবে মাহাবুবদের বসতবাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে। ঘরের দরজায় মাহাবুবকে পেয়ে গালিগালাজ শুরু করলে তিনি প্রতিবাদ জানান। এতে ১ নম্বর অভিযুক্ত ফরহাদ শিকদারের নির্দেশে অভিযুক্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে মাহাবুবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় কাঠের স্ট্যাম্প দিয়ে মাহাবুবের মুখে ও নাকে আঘাত করে হাড়ভাঙা রক্তাক্ত জখম করা হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্তরা ক্রিকেট ব্যাট, লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে তার পেটে, উরুতে ও হাতে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তজমাট ও নীলাফোলা জখম সৃষ্টি করে। এ সময় মাহাবুবের ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সাথী বেগম (২৫) স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও পেটে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানি ঘটানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মারপিটের একপর্যায়ে মাহাবুবের গলায় থাকা আনুমানিক ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পেটের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মাহাবুবের জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। বর্তমানে মাহাবুব হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন এবং তার স্ত্রী একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালী থানায় ১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২)/১১৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।