আহমেদ বায়েজিদ, বরিশাল:
প্রকাশ: ২১:০৯, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
রাতের গভীরতা যতই বাড়ুক, থেমে নেই নদী রক্ষার অভিযান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতের আঁধারে দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে ছুটে গিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দুটি বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার আটক এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এমন তৎপরতা স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। আটক ড্রেজারের মালিক বেল্লাল হাওলাদার বলে জানা গেছে। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের মাধ্যমে দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে বালু উত্তোলনের খবর পান ইউএনও ফরিদা সুলতানা। খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে যান। তবে সেখানে সংশ্লিষ্ট কাউকে না পেয়ে ফিরে আসেন। পরে রাত ৩টার দিকে একই এলাকায় পুনরায় বাল্কহেড ও ড্রেজার এনে বালু উত্তোলন শুরুর খবর আসে তাঁর কাছে। খবর পাওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো অভিযানে ছুটে যান তিনি।
এ সময় অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকরা পালিয়ে গেলেও দুটি বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার আটক করা হয়। পরে আইন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। কীর্তনখোলা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে প্রশাসনের এই অভিযান সংশ্লিষ্টদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে।
এ বিষয়ে ইউএনও ফরিদা সুলতানা বলেন, “কীর্তনখোলা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন লঙ্ঘন করে রাতের আঁধারে কেউ বালু উত্তোলন করে পার পাবে না। নদী, পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”