মিজানুর রহমান, ঝিকরগাছা,যশোর
প্রকাশ: ২২:১৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
যশোরের ঝিকরগাছা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক তথা এএসআই (নিরস্ত্র) মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে বিনা পরোয়ানায় এক ব্যক্তির বাড়িতে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো, পরিবারের সদস্যের কাছে অর্থ দাবি, থানায় মধ্যে মারধর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে থানার এএসআই (নিঃ) মো. আশরাফুল আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কৃষ্ণনগর এলাকার মো. মোজাফ্ফর সরদারের বাড়িতে যান। এ সময় কোনো ধরনের সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই বসতঘর তল্লাশি করা হয় এবং খোঁজাখুঁজি করে মো. রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তিকে না পেয়ে তার ভাই আসাদুজ্জামানের মোবাইল নম্বর নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সকালের মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ না দিলে অন্য মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরদিন ২৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে এগারটার দিকে ওই নম্বর থেকে ফোন পেয়ে থানায় উপস্থিত হন বাদী আসাদুজ্জামান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, থানায় পৌঁছানোর পর ডিউটি অফিসারের রুমের সামনে থেকে এএসআই (নিঃ) আশরাফুল আলম তাকে হাজতখানার সামনে ডেকে নিয়ে আটক ব্যক্তির নিকট থেকে অর্থ দাবি করেন। বাদীর পক্ষ থেকে অপারগতা প্রকাশ করা হলে তাকে হাজতখানা সংলগ্ন একটি কক্ষে নিয়ে পকেটে থাকা নগদ টাকা, মোটরসাইকেলের চাবি ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এ সময় প্রতিবাদ করায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং আরও অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই ঘটনার সম্পূর্ণ বিষয় থানার সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযুক্ত এএসআই (নিরস্ত্র) মো. আশরাফুল আলমের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোনটি রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (সিনিয়ার এএসপি) মোঃ আরিফ হোসেন-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উল্লেখিত বিষয়ে আমার নিকট অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে থানার সিসিটিভি ফুটেজের একটা বিষয় রয়েছে সেটা যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে। বর্তমানে অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তীতে আইনগত প্রতিকার চেয়ে নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক সত্য উদঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীসহ তার পরিবার।