মোঃ রাজিব হোসেন, মাগুরা
প্রকাশ: ১৬:০১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
মাগুরা পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য রনি শিকদার ও শামীমা তাবাসসুম লুবনার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে দুই আসামিকে মাগুরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক শান্তা ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাদের মাগুরা সদর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়।
মাগুরা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর জানান, যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন এবং এতে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে পুলিশ তাদের ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। তবে শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারের ভেতর থেকে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমদিকে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও পরে তাঁর মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার ও শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মাগুরায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নিহতের পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।