মাহমুদুল হাসান, ময়মনসিংহ।
প্রকাশ: ১৯:৪১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশালে রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণস্থলে ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহসহ পাঁচ জেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও লুণ্ঠিত মালামালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল-মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট থেকে ২ অক্টোবর রাত ৩টার মধ্যে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের মঠবাড়ি বড় পুকুরপাড় এলাকায় রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণস্থলে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দুটি ট্রাকে করে সেখানে থাকা বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে ছিল ৬০০ পিস এমএস পাইপ, ১৬০ পিস স্টিল শাটার, ১৬০ পিস স্টিল জয়েন্ট, ১০টি জানালার গ্রিল, নয়টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা। এজাহারে লুণ্ঠিত মালামাল ও নগদ অর্থের মোট মূল্য ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিজভী কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) মো. মোখছেদুর রহমান বাদী হয়ে ৩ অক্টোবর ত্রিশাল থানায় মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩৯৫ ও ৩৯৭ ধারায় মামলাটি করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের কাজ শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জামালপুরের ইসলামপুরের খবিজল (৩৫) ও সৈকত ওরফে সাখাওয়াত (২৪), ময়মনসিংহের নান্দাইলের আবু হানিফ (৩৮) ও উজ্জল মিয়া (২৫), ভোলার দুলারহাটের সোহেল (২৫), বরিশালের মুলাদীর বাদল ওরফে আসলাম (২৮), ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাসুদ মিয়া (৩৫) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের ফরিদ হোসেন (৪৫)।
পুলিশের তথ্যমতে, খবিজলকে ৯ অক্টোবর, আবু হানিফ ও উজ্জল মিয়াকে ১৪ অক্টোবর এবং সোহেলকে ১৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার নাওজোড় এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আরআইসিএল লোহার কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে ছয় পিস এমএস পাইপ উদ্ধার করা হয়। মামলার বাদী উদ্ধার করা পাইপগুলো লুণ্ঠিত মালামাল হিসেবে শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লুণ্ঠিত মালামালের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।