৪২ শতক বেগুনখেতে বিষ প্রয়োগ, এক রাতেই নিঃস্ব ৩ কৃষক

আরিফুল ইসলাম, জয়পুরহাট

প্রকাশ: ২০:২০, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

৪২ শতক বেগুনখেতে বিষ প্রয়োগ, এক রাতেই নিঃস্ব ৩ কৃষক

সারাবছরের পরিশ্রম, জমিতে বিনিয়োগ করা টাকা আর ভালো ফলনের আশা—সবকিছু যেন এক রাতেই এলোমেলো হয়ে গেছে তিন কৃষকের। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা গ্রামে বেগুনখেতে ঘাসনাশক প্রয়োগ করে গাছ নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে তিন কৃষকের মোট ৪২ শতক জমির বেগুনগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে জমিতে গিয়ে কৃষকেরা দেখতে পান, বেগুনগাছগুলো নেতিয়ে পড়ছে, ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে কে বা কারা জমিতে ঘাসনাশক প্রয়োগ করেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত তিন কৃষক হলেন বড়তারা গ্রামের মামুনুর রশিদ, আমজাদ হোসেন ও জুলেখা বেগম। তাঁদের মধ্যে মামুনুর রশিদের ১২ শতক, আমজাদ হোসেনের ২০ শতক এবং জুলেখা বেগমের ১০ শতক জমির বেগুনগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষক মামুনুর রশিদ জানান, অনেক টাকা ও শ্রম ব্যয় করে ১২ শতক জমিতে বেগুনের আবাদ করেছিলেন। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু গাছে ঘাসনাশক প্রয়োগের অভিযোগের পর পুরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁর জমির বেগুনগাছে সবে ফল ধরতে শুরু করেছিল। সকালে গিয়ে গাছগুলো নেতিয়ে পড়তে দেখেন। পরে পানি স্প্রে করেও কোনো সুফল পাননি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, জুলেখা বেগমের ১০ শতক জমির বেগুনগাছও একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। ফসল হারিয়ে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন তিনিও।

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ দত্ত জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছেন। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, ফসলে বিষ প্রয়োগ করে ক্ষতিসাধনের বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিন কৃষকের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ফসল নষ্টের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন