রাজশাহীতে বাসায় ডেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

মোস্তাফিজুর রহমান জীবন, রাজশাহী

প্রকাশ: ১৮:২২, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীতে বাসায় ডেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি, নারীসহ গ্রেপ্তার ২

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকায় বাসায় ডেকে এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, নগদ ও বিকাশ থেকে উত্তোলন করা ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার এবং  আরও ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুলতানা (৩৯) ও মো. আসলাম আলী (৫৫)। সুলতানা মহানগরীর ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। আসলাম আলীর বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর থান্দারপাড়া এলাকায়। তিনি বর্তমানে তেরখাদিয়া ডাবতলা এলাকায় বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. মনোয়ার হোসেন মানুর সঙ্গে প্রায় দুই মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুলতানার পরিচয় ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুলতানা তাকে নিজের বাসায় আমন্ত্রণ জানান। পরে বিকেল ৪টার দিকে তিনি ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনীর ওই বাসায় যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় প্রবেশের পর আগে থেকে অবস্থান করা কয়েকজন ব্যক্তি দরজা বন্ধ করে তাকে জিম্মি করেন। এ সময় তাদের মধ্যে দুজন নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আনতে বাধ্য করা হলে ভুক্তভোগীর নগদ ও বিকাশ হিসাবে মোট ২৬ হাজার ৭০০ টাকা পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৫ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনীতে সুলতানার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে সুলতানা ও আসলাম আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অভিযানে তাদের হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং নগদ ও বিকাশ হিসাব থেকে উত্তোলন করা ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সুলতানার দেখানো একটি শপিং ব্যাগ থেকে আরও ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসলাম আলীর বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় পেনাল কোডে একটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন