মোঃ রুহুল আমিন রাসেল, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ১৬:২৬, ২ নভেম্বর ২০২৬
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল রাতে এক ব্যক্তির মাধ্যমে সদর হাসপাতাল থেকে আদরি বেগমকে নিউ অতিথি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ৩৫ হাজার টাকায় চুক্তি হয় এবং অগ্রিম টাকা নেওয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, পরদিন সকালে অস্ত্রোপচার করার কথা বলা হলেও তাঁদের না জানিয়েই রাতেই অস্ত্রোপচার করা হয়।
তাঁদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনদের রংপুরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। এ সময় রোগীর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং শরীরের সাড়া না পাওয়ায় তাঁদের সন্দেহ হয় যে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরে ভোররাত পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকেন তাঁরা।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, সকালে তাঁরা রোগীর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ, কর্তব্যরত কর্মচারী ও চিকিৎসকদের কাউকে আর সেখানে পাওয়া যায়নি। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্লিনিক ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও সঙ্গে নিয়ে যান। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান স্বজনেরা।
নিহত আদরি বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বড় সন্তানের বয়স আনুমানিক ১৪ বছর এবং দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ৮ বছর। মাকে হারিয়ে সন্তানদের কান্নায় ক্লিনিক এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আদরি বেগমের অস্ত্রোপচার করেন গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. এস এম আলী। তবে তাঁর চিকিৎসাগত ভূমিকা, অস্ত্রোপচারের সময়কার পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, খোঁজখবর নিয়ে ক্লিনিকটির নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
তবে নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম জানান, জেলায় ক্লিনিকগুলোতে অভিযান চলমান রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জেলায় মাত্র ২৭টি ক্লিনিকের কাগজপত্র ঠিক রয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আদরি বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? স্বজনদের না জানিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল কি না? রোগীর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র কোথায়? ক্লিনিকটির নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে সেখানে চিকিৎসাসেবা পরিচালিত হচ্ছিল কীভাবে? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না তা যাচাই এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
এ বিষয় সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই শ্রী তুষার কান্তি জানায়, আমরা সমস্ত তথ্য প্রমান সংগ্রহ করছি এবং অভিযোগ দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হবে।