চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চাই সমন্বিত পরিকল্পনা, অর্থমন্ত্রী

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১০:৩৮, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪০, ১০ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চাই সমন্বিত পরিকল্পনা, অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে সামগ্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়, খালের দুই পাড়ে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

৯ অক্টোবর(শুক্রবার) বিকেলে নগরীর টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সম্মেলন কক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হলেও সামগ্রিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একটি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই অন্য এলাকায় নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, খালকেন্দ্রিক উন্নয়নকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এর সঙ্গে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার বিষয়টিও যুক্ত করতে হবে। খালের দুই পাড়ে হাঁটার পথ ও সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা গেলে পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি নগরবাসীর চলাচল ও বিনোদনের সুযোগও বাড়বে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি একসঙ্গে দেখা দিলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজারসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময়ে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখনন, নালা নির্মাণ, প্রতিরোধক দেয়াল এবং পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত রয়েছে। চসিকও নগরীর নালা-নর্দমা পরিষ্কার, খাল-নালা সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখার কাজ করে আসছে।

কিন্তু এসব উদ্যোগের পাশাপাশি খাল ও নালার সংযোগ, পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং বিভিন্ন সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, নির্মিত অবকাঠামোর কার্যকারিতা বজায় রাখাও জলাবদ্ধতা নিরসনের অন্যতম শর্ত।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে তাই চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি কোন এলাকায় পানি জমছে, কোথায় পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কোন খাল বা নালার সঙ্গে অন্যটির সংযোগ প্রয়োজন—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে চিহ্নিত করা জরুরি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে খাল পুনঃখনন, নালা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের সংযোগ এবং স্লুইসগেট পরিচালনার ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা বাড়তে পারে।

একই সঙ্গে বর্ষার আগে খাল-নালা পরিষ্কার, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম শামস, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম এবং জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন