পে-ফিক্সেশন শেষ, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলবে বকেয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:৩৮, ২১ অক্টোবর ২০২৬

পে-ফিক্সেশন শেষ, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে মিলবে বকেয়া

নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল মঙ্গলবার।

গত ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন, পুরোনো বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া শেষে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী তিন মাসের বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা। তবে প্রতিরক্ষা ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।

আইবাস প্লাস প্লাসের পাইলটিং কার্যক্রমের তথ্যমতে, জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা সাবমিট না করা পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন মাসের বকেয়া অর্থও পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের।

তবে গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন ও কার্যকর হওয়ার সময়ের ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণ ভিন্ন হবে।

দীর্ঘদিন নতুন বেতনকাঠামো না আসায় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বেতনবৈষম্য নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। আদেশটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।

নতুন পে-স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। ১২ থেকে ২০তম গ্রেডেও বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে আগের ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতন বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্ধিত বেতনের অর্থ ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা পুরোনো ও নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে ৭০ ও ৭৫ শতাংশ হবে। তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ নতুন মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।

১৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রচলিত যেসব ভাতা মূল বেতনের শতাংশভিত্তিতে দেওয়া হয়, সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন