নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:২৪, ২০ অক্টোবর ২০২৬
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে পেট্রোলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি চার ডলার ছাড়িয়েছে, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়।
ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর আগে ২০২২ সালের আগস্টে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে গ্যালনপ্রতি পেট্রোলের দাম চার ডলার ছাড়িয়েছিল।
ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ওঠানামার মধ্য দিয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়ে যায়। দিনের একপর্যায়ে দাম ১১১ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে দাম কিছুটা কমে ১০৮ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামেও ব্যাপক ওঠানামা দেখা যায়। দিনের শুরুতে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা দাম একপর্যায়ে ৯৮ দশমিক ১২ ডলারে নেমে আসে। পরে আবার বেড়ে ১০১ ডলারের ওপরে ওঠে।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দামে অতিরিক্ত ঝুঁকিজনিত মূল্য যুক্ত হচ্ছে। তাঁদের ধারণা, অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এই অতিরিক্ত মূল্য দ্রুত কমার সম্ভাবনা সীমিত।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, তেলবাহী ট্যাংকারের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহনের খরচও বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিছু ট্যাংকারকে আবার বৈধ বাজারে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে পরিবহন সক্ষমতা বাড়তে পারে এবং সরবরাহ ব্যয় কমতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ যুদ্ধ শুরুর আগের মাত্রার প্রায় ৮০ শতাংশে ফিরেছে। তবে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য সরবরাহে এখনো উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এদিকে, এশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারেও দাম বেড়েছে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার এশিয়ায় এলএনজির স্পট মূল্য প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটে ৩০ দশমিক ৪ ডলারে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। ইয়েমেন উপকূলে একটি এলএনজিবাহী ট্যাংকারে গুলিবর্ষণের খবরের পর জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইউরোপেও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জের (আইসিই) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে আগামী মাসে সরবরাহের জন্য ডাচ টিটিএফ গ্যাস ফিউচারের দাম প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৮৮ ইউরোর কাছাকাছি ছিল। এর আগে দাম ৮৯ ইউরো ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি আমদানি, পরিবহন ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: ইউরোনিউজ, ট্রেডিং ইকোনমিকস, ব্লুমবার্গ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য।