শেয়ারবিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:০০, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শ্রবণ স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম সম্মানিত ও বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক আয়োজন ‘১৬তম কোয়ালিশন অফ গ্লোবাল হিয়ারিং হেলথ কনফারেন্স ২০২৬’ এ গৌরবময় প্রতিনিধিত্ব করেছে বাংলাদেশ। দেশের স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎসকদের জাতীয় পেশাজীবী সংগঠন সোসাইটি অফ স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) এর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।
তামিলনাডুর চেন্নাইয়ে অবস্থিত শ্রী রামচন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ এর মূল মিলনায়তনে ৯ অক্টোবর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে শ্রবণ ও যোগাযোগ স্বাস্থ্যখাতের গবেষক, চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা একত্রিত হন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তামিলনাডু সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ড. দারেজ আহমেদ।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্র্যাকটিস ও বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে এসএসএলটির দুই প্রতিনিধি এবং স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎসক নার্গিস জাহান ও সাতিয়া মুনতাহা দুটি পৃথক ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। তাদের গবেষণায় বাংলাদেশে শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবকদের বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক সচেতনতা এবং বিশেষায়িত বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সেবাকাঠামোর চিত্র বৈজ্ঞানিকভাবে তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী এসএসএলটির অন্যান্য প্রতিনিধি ও সহযোগী গবেষক মো. ওয়াকিল আহাদ, মাসুমা সুরাইয়া, মো. রাকিব হোসেন এবং শাহরিয়ার হোসেন রিশাদ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং শ্রবণস্বাস্থ্যের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অগ্রগতির বিষয়ে ধারণা লাভ করেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, বিশ্বের ২৭টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সক্রিয় উপস্থিতি প্রমাণ করে যে দেশের গবেষক ও প্র্যাকটিশনাররা বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক ধারায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছেন। তাদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও অভিজ্ঞতা দেশের শ্রবণ ও যোগাযোগ স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্বমানের দিকে এগিয়ে নিতে এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসএসএলটি আশা প্রকাশ করেছে যে, বিশ্বমানের গবেষণা চর্চা ও আন্তর্জাতিক পেশাগত সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক শ্রবণ স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন চিকিৎসা সেবার পরিধি ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে।