শেয়ারবিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ০১:৩৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
এ ঘটনায় নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবারের সদস্যরা লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন কাটছে তিন পরিবারের সদস্যদের। অন্যদিকে, নিখোঁজের কারণ ও তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
নিখোঁজ তিন কিশোরী ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তারা হলো, রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। রেশমি আক্তারের বাবা শহিদুল ইসলাম ও মা রোজিনা আক্তার। তাদের বাড়ি ইয়াংছার বনফুর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডে। তানিয়া সুলতানার বাবা আবুল হাশেম ও মা কুলছুমা বেগম। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি ইয়াংছারমুখ মুসলিম পাড়ায়। একই এলাকায় বসবাস হালিমাতুচ্ছ সাদিয়ার পরিবার। তার বাবা বেলাল উদ্দিন ও মা শারমিন আক্তার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড আনার কথা বলে তিন কিশোরী একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়। রেশমি ৮ম শ্রেনি পর্যন্ত ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। তার রেজিষ্ট্রেশন কার্ড আনার কথা শুনে অন্য দুই কিশোরীও সঙ্গে বের হয়েছিল।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তারা একটা সিএনজিতে করে ইয়াংছা বাজারে যায়। পরে সেখান থেকে ২০০টাকা দিয়ে একটি টমটম ভাড়া নিয়ে চকরিয়ার দিকে রওনা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এরপর তারা কোথায় গেছে, কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না কিংবা কী কারণে নিখোঁজ হয়েছে, এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, তিন কিশোরীর নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও। পরিবারের সদস্যরা তাদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সন্তানদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) জামিল আহমেদ জানান, নিখোঁজের বিষয়টি জানার পর পুলিশ নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে অভিভাবকদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুফিজ উদ্দিন জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিক থেকেই ওই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রশাসনের মাধ্যমে তিনি তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে জানান তিনি।
তিন কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের সন্ধানে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ কিশোরীদের দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।