এস কে রবিউল ইসলাম, খুলনা
প্রকাশ: ২৩:০০, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
খুলনা সুয়ারেজ অ্যান্ড ওয়াটার সাপ্লাই অথরিটির (ওয়াসা) নির্বাহী প্রকৌশলী-১ রেজাউল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) পদের জন্য একটি বিশেষ মহলকে ৮৪ কোটি টাকার খালি চেক দেওয়া এবং একই কাজের বিপরীতে দুইবার বিলের নথিপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এ পদক্ষেপ নেয় সংস্থাটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা ওয়াসায় রেজাউল ইসলামের দপ্তরে ঝটিকা তল্লাশি চালায় দুদকের একটি বিশেষ দল। অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাইসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
দুদক ও খুলনা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, রেজাউল ইসলামকে খুলনা ওয়াসার ‘পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২’-এর রুটিন দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, ২০২৫ সালে অনৈতিকভাবে মোটা অংকের অর্থ ও ৮৪ কোটি টাকার খালি চেকে লেনদেনের বিনিময়ে তিনি ওই পদ বাগিয়ে নেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সম্প্রতি তাকে প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অভিযানের বিষয়ে দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল জানান, “অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলামকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প ও উত্থাপিত অভিযোগ সংক্রান্ত সকল নথিপত্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি বর্তমানে সম্পূর্ণ তদন্তাধীন রয়েছে।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। কারণ দর্শানোর নোটিশের (শোকজ) মাধ্যমে আমি এর সঠিক জবাব প্রদান করব।”
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংগৃহীত নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।