নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১:২৩, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
গত মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান ও সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের যৌথ স্বাক্ষরে ২০ সদস্যের এই বিতর্কিত আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঘোষিত কমিটিতে ফুলবাড়ী উপজেলার রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসুকে উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুলকে করা হয়েছে সদস্য সচিব।
ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের শীর্ষ পদে বসিয়ে কমিটি গঠন করায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত এ কমিটিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমানের ‘আশীর্বাদপুষ্ট’ হয়ে শামসুজ্জামান হাসু এবং সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের ‘আশীর্বাদপুষ্ট’ হয়ে আব্দুল মান্নান মুকুল শীর্ষ পদ পেয়েছেন।
এছাড়াও কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, যতীন্দ্র নারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক ও সাংবাদিক শাহীনুর রহমান এবং অগ্রণী ব্যাংক ফুলবাড়ী শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা তহিদুল হককে।
কমিটি প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ফুলবাড়ীতে বিএনপির পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
নতুন কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। একইভাবে সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মুকুলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ক্ষোভ প্রকাশ করে নতুন গঠিত কমিটির সদস্য ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির এই কমিটিকে কোনোভাবেই দলীয় কমিটি বলা যাবে না। এটি মূলত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কমিটি’। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে কোনো সরকারি কর্মচারী রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না। জেলা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব সম্পূর্ণ অনিয়ম করে এদের কমিটিতে বসিয়েছেন। আমরা পুরো বিষয়টি বিএনপি হাইকমান্ড ও কেন্দ্রীয় নেতাদের লিখিতভাবে অবহিত করব।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, চাকরিবিধি অনুযায়ী সরকারি কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রাজনৈতিক দলের সাধারণ সদস্য হওয়া, পদ গ্রহণ করা, দলীয় সভা-মিছিল বা নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণরূপে আইনত নিষিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, ফুলবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের রাজনৈতিক দল বা কমিটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।